নৈশপ্রহরীকে পিটিয়ে হাত ভাঙার অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে বগুড়া

নৈশপ্রহরীকে পিটিয়ে হাত ভাঙার অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে বগুড়া

ব্যুরো ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৩৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ 1 Shares facebook sharing buttonmessenger sharing buttonwhatsapp sharing buttontwitter sharing buttonlinkedin sharing buttonprint sharing button ছবি বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সমর কুমার পালের বিরুদ্ধে পরিষদের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (নৈশপ্রহরী) আলমগীর হোসেন শেখকে (৪৮) পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, মারপিটের পর তাকে দূরে ফেলে দিয়ে আসা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান তাকে গাড়িতে করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ফোন না ধরায় অভিযোগের ব্যাপারে ইউএনও সমর কুমার পালের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অন্য সাংবাদিকদের জানিয়েছে, তিনি কাউকে মারপিট করেননি। এটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক জানান, আহত নৈশপ্রহরী আলমগীর অভিযোগ করেছেন- স্ত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আনসারের সহযোগিতায় ইউএনও তাকে মারপিট করেছেন। জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক জানান, ইউএনওর বিরুদ্ধে নৈশপ্রহরীকে মারপিটের অভিযোগ উঠায় এ ব্যাপারে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাহ্উদ্দিন আহমেদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, আলমগীর হোসেন শেখ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চক শিয়ালকোল গ্রামের মৃত মেহের আলীর ছেলে। তিনি বগুড়া সদর উপজেলায় এলজিইডি অফিসের নৈশপ্রহরী। কিছুদিন ধরে স্ত্রী শহিদা বেগমের সাথে তার পারিবারিক কলহ চলে আসছে। এ কারণে তিনি স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরিষদের তৃতীয় তলায় সরকারি কোয়ার্টারে থাকেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে শহিদা বেগম উপজেলা পরিষদে আলমগীগের খোঁজ করতে আসেন। তাকে না পেয়ে তিনি ইউএনওকে নালিশ করে চলে যান। এর আগে তিনি (শহিদা) এ ব্যাপারে এলজিইডি অফিসের প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ করেন। প্রকৌশলী তার কাছে ঘরের চাবি কেড়ে নেন এবং চাকরিচ্যুৎ করার ভয় দেখান। আহত নৈশ প্রহরী আলমগীর হোসেন শেখের জামাতা মাসুদ, মেয়ে লোপা খাতুন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ইউএনও সমর কুমার পাল আনসার সদস্যদের মাধ্যমে আলমগীরকে তার কক্ষে ডেকে নেন। স্ত্রী শহিদার অভিযোগ যাচাই না করেই ক্ষমা চাওয়ার পরও ইউএনও এবং তার দেহরক্ষী আনসার সদস্যরা আলমগীরকে লাঠিপেটা করেন। এরপর তাকে অচেতন অবস্থায় উপজেলা পরিষদের মসজিদে সামনে রাস্তায় ফেলে দিয়ে আসা হয়। পথচারীরা সেখানে ভিড় করলে উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক নিজ গাড়িতে নৈশপ্রহরীকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এর আগে আলমগীর সকলের কাছে অভিযোগ করেন, ইউএনও তাকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, এক্সরে রিপোর্ট অনুসারে ওই ব্যক্তির বাম হাত ও দুটি আঙুল ভেঙে গেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল ফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ইউএনও সমর কুমার পাল। সেখানে তিনি বলেন, এলজিইডির নৈশপ্রহরী আলমগীর স্ত্রীকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে পরিষদের ভেতরে রাত যাপন করেন। নানা ঝামেলা করেন। পরিষদের পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেছেন। বৃহস্পতিবার স্ত্রীকে অসুস্থ অবস্থায় পরিষদের বারান্দায় ফেলে তিনি পালিয়ে যান। পরে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে মেয়ের বাড়িতে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকালে আলমগীর উপজেলা পরিষদে এলে তাকে ডাকেন। উল্টাপাল্টা কথা বলায় তাকে বের করে দিয়েছেন। বের করে দেওয়ার পর কারও ইন্ধনে নাটক করছেন আলমগীর। মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও বলেন, এটার পেছনে একটা গ্যাং আছে। ইউএনওকে বিতর্কিত করার জন্য কিছু লোক আছে, তারা সুযোগ নিচ্ছে এবং তাকে দিয়েই এটা করাচ্ছে। উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক জানান, নৈশপ্রহরীর অভিযোগ মতে ইউএনও তাকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছেন। তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অজ্ঞাত কারণে শুক্রবার সকালে পালিয়ে গেছেন। জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যাপারে তদন্ত করতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.